Subscribe Here





Related Interviews

There is a big opportunity for students of this department to enter the Ministry of Foreign Affairs.


Created on: Aug 08, 2013 21:16 pm
int-make

Dr.Imtiaz Ahmed

Professor, Department of International Relations
University of Dhaka:DU

এই বিষয়ে পড়তে হলে আগে থেকে যেসব ধারণা থাকতে হবে...

ভালো ছাত্র হতে হবে, এটা একটা পূর্বশর্ত। এরপর আমার যা মনে হয় তা হল ইংরেজি ভাষার উপর দখল থাকতে হবে, এটা এই কারণে যে যেহেতু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তাই বেশিরভাগ বই ইংরেজিতে। সেই হিসেবে ইংরেজিতে দক্ষ হলে ভালো। আর যেহেতু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তাই অন্য কোন ভাষা জানা থাকলে ভাল। এটা জানিয়ে রাখা দরকার যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র বিভাগ যেখানে তৃতীয় আরেকটি ভাষা নিতে হয় বাধ্যতামূলকভাবে। মাতৃভাষার পর ইংরেজির বাইরে অন্য আরেকটি ভাষা এখানে বাধ্যতামূলক যা অন্য কোন বিভাগে বাধ্যতামূলক না। এখানে ফ্রেঞ্চ থেকে চাইনিজ, জাপানিজ ভাষা নিতে পারে। ভালো ছাত্র ও ভাষার বাইরে যদি সাধারণ জ্ঞান ভালো থাকে তাহলে সেটা তার কাজে লাগবে।

বিষয়টি গাণিতিক/ লজিকাল/ তাত্ত্বিক? এখানে আলাদা করে শারীরিক প্ররিশ্রম এর কোন বিষয় আছে কি?

এটি সামাজিক বিজ্ঞানের অংশ, এখানে পরিসংখ্যানের উপর একটি বাধ্যতামূলক পেপার আছে। ম্যাথমেটিকাল আন্তর্জাতিক সম্পর্কও আছে, বিশেষ করে যারা আর্মসের উপর কাজ করে, পলিটিক্যাল ইকোনোমির উপর কাজ করে তাদের খুব ভালো হয় যদি গানিতিক জ্ঞান ভালো থাকে। সামাজিক বিজ্ঞানের অংশ হিসেবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি একটি খুব সাধারন বিষয়।

এই বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত মজার কর্মসূচিসমূহ...

আমার কাছে IR খুব মজার একটি বিষয় মনে কারন এর ফিল্ড প্রচন্ড পরিবর্তনশীল এবং প্রায় প্রতি মাসেই পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় এখন আরব বিশ্বে যে পরিবর্তন হচ্ছে তা খুব স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আওতায় আসে। এরপর ওবামা দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হল, এর কি প্রভাব পড়বে, মায়ানমারে গিয়ে অং সান সূচির সাথে কথা বলল এই সবই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। সব সময় পরিবর্তনশীল বিশ্ব হয়ে যায় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাথা ব্যাথা। সেই হিসেবে প্রতিটি পরিবর্তন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে পড়ে যায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কেন ইসলামাবাদ গেলেন না, ডি-৮ এর সম্মেলনে কি কোন রাজনীতি ছিল নাকি এই সবই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে পড়ে যায়। সুতরাং প্রতিদিন এতো পরিবর্তন হচ্ছে যে একজন ছাত্র আনএক্সাইটেড হবার সুযোগ থাকে না। সবসময় তাকে চোখ, কান খোলা রাখতে হবে।

এই বিষয় বেছে নিলে একজন ছাত্র-ছাত্রী যা যা করতে বা হতে পারেন...

পাশ করার পর যে কোন ডিসিপ্লিনে চাকরি করতে পারে। ব্যাংকিক থেকে শুরু করে এনজিও তাছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা আছে। এরপর আছে বিসিএস দেবার ব্যাপারটা। IR এ পড়া কোন ছেলে বা মেয়ে যদি বিসিএস দেয় তবে তার বেশ কয়েকটা পেপার কমন পড়ে যেহেতু ৪-৫ বছর প্রায় একই রকম পেপার তাদের পড়তে হয়। সেই হিসেবে আমাদের অনেকেই আছেন হয়ত ভিন্ন পেশায় গেছেন তবে সন্দেহ নেই ফরেন অ্যাফ্যায়ার্সের মধ্যেও প্রচুর আছে যারা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে পড়া, একাধিক রাস্ট্রদূত আছেন যারা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে পাশ করা। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে প্রাক্তন রাস্টপতি শাহাবুদ্দীন ছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছাত্র। যদিও পরে অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন। মানে এখানে কোন বাঁধা নেই সে কোথায় যাবে, মূল হচ্ছে তার ইচ্ছাটা কি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক থাকলে তার বড় একটা পারসপেক্টিভ তৈরি হয় যা তাকে যে কোন ডিসিপ্লিনে যেতে সাহায্য করবে। এখন গার্মেন্টস সেক্টরেও অনেক আছে যারা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছাত্র।

দেশে ও বিদেশে চাকরির ক্ষেত্র, সুযোগ ও চাহিদা...

এখন পর্যন্ত যারা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে পাশ করেছে কিন্তু বেকার এমন দেখা যায়নি। হয়ত বিসিএস এর প্রস্তুতি নিচ্ছে বা বিদেশে যাবে এমন আছে কিন্তু চাকরি না পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন শোনা যায়নি। আমাদের দেশে বা বিদেশে চাকরির জন্য যে গুণ গুলো থাকা দরকার যেমন স্মার্ট হতে হবে, আপ-টু-ডেট থাকতে হবে, ভালো ইংরেজি জানতে হবে এই বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছাত্রদের থাকে তাই যেখানেই ইন্টারভিউ দিতে যায় তার তেমন সমস্যা হয় না।

কোন প্রতিষ্ঠানে যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা কাজ করার স্বপ্ন দেখেন...

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চাকরির বড় ক্ষেত্র আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, ডোনারদের যে কমিউনিটি আছে, একাধিক দূতাবাসে কাজ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছাত্ররা। আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এমন কম দূতাবাস আছে যেখানে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছাত্ররা নেই। সে আগে থেকেই দেশগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানে আমার মনে হয়েছে ইন্টারভিউ এর সময় খুব সাবলীলভাবে উত্তর দিতে পেরেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানেও একই ব্যাপার, যেহেতু তাদের চাহিদা থাকে একাধিক ব্যাপারে জানা থাকে যেমন অর্থনীতি, রাজনীতি, সামাজিকবিজ্ঞান, ভূগোল জানা থাকে। যেহেতু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি মাল্টি ডিসিপ্লিন বিভাগ তাই ভালো রেজাল্ট থাকলে কারো সমস্যা হবার কথা না।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা...

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই আছে, সকল উন্নত দেশে আছে। একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে যে উন্নত দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের লোকের জানতে চায় বাংলাদেশ বা উন্নয়নশীল দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের লোকের কি ভাবছে। সেই হিসেবে আমি মনে করি স্কলারশিপ পাওয়াটাও সহজ হয়ে যায়। এই মুহুর্তে অনেকেই আছেন যারা লেকচারার হিসেবে বা অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর হিসেবে জয়েন করেছেন, জুনিয়র কলিগ, তারা বিভিন্ন দেশে PhD করছেন বা  মাস্টার্স করছেন। এই হিসেবে মনে করি যারা টিচিং প্রফেশনে আসে তাদের জন্য বেশ সহজ স্কলারশিও পাওয়া। আর যারা এদিকে আসেন না সরকারি চাকরি করেন তাদের অনেকেই আছেন যারা বিদেশে গিয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। আর কোন সন্দেহ নেই যারা পররাস্ট্র মন্ত্রানালয়ে কাজ করেন তাদের অনেক প্রয়োজনীয়তা থাকে ডিগ্রি নেবার ব্যাপারে। বেশিরভাগ ছাত্ররা আমেরিকা বা ব্রিটেনে বেশি যেতে যায় যদিও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে বেশি যাচ্ছে। এর কারন অস্ট্রেলিয়া প্রচুর স্কলারশিপ দিচ্ছে। এখানে প্রচুর খরচের ব্যাপার আছে আর অস্ট্রেলিয়া ১০০% ফান্ডিং দিচ্ছে তাই অনেকেই সেখানে যাচ্ছেন। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও অনেকে যাচ্ছেন, এছাড়াও সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এসব দেশেও ইদানীংকালে যাচ্ছে। সুতরাং যেখানেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়টা আছে, স্কলারশিপ আছে সেখানেই যাচ্ছে।

নতুনদের উদ্দেশ্যে...

একজন ছাত্রের উচিৎ হবে সৃজনশীল হওয়া। আমি এটা বলছি না যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়লেই সৃজনশীল হবে তা না কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়া থাকলে পৃথিবীর নানা জায়াগায় যে পরিবর্তনগুলো হচ্ছে তার সাথে সহজে সম্পৃক্ত হতে পারে। যার কারণে তার চিন্তাভাবনাটাও বড় হবার সুযোগ থাকে। বড় হবেই তার কোন নিশ্চয়তা নেই কিন্তু সুযোগ থাকে। সেই হিসেবে কেউ যদি এই সাবজেক্টে পড়তে চায়, ছাত্র হিসেবে বা এমনি পড়তে চায় আমি এই কারণে উৎসাহ দেব যে পৃথিবী এখন বিশ্বায়নের যুগ। এই যুগে আমি যত বেশি বিশ্বের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারি তত বেশি ভালো। তার সাথে এখন সাইবার টেকনোলোজির যুগ। ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি ঘরেই কিছু না কিছু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আছে। সবাই কোন না কোন ভাবে বিদেশের সাথে সম্পর্ক রাখছে। এই বিশ্বায়নের যুগে একজন আর্কিটেকচারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। কারন বিশ্বে কি ধরণের পরিবর্তন আসছে তার সাথে আর্কিটেকচারাল ডিজাইনের যে পরিবর্তন আসছে টা জানার জন্য তাকে বাধ্য করছে বিশ্বায়ন সম্পর্কে জানতে। একই ভাবে আমি মনে করি যে অর্থনীতি পড়ে তারও জানা দরকার আবার অন্যদিকে যে পদার্থ পড়ে তারও জানা দরকার। এর ফলে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এই ডিসিপ্লিনে যে তার গন্ডিটা শুধু Dept of IR এই সীমাবদ্ধ না, একজন একাধিক ডিপার্টমেন্ট আছে যারা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কোর্স চালু করেছে। সেই হিসেবে আমি মনে করি যেহেতু বিশ্বায়নের যুগ সেই হিসেবে একজন ছাত্র যেমন উপকৃত হবে তেমনি তার সাথে সাথে গোটা দেশও উপকৃত হবে।