Subscribe Here





জীবনযুদ্ধে “আহত” “নিহত” ও “বিজয়ী” মানুষদের জন্য (পর্ব-২)

Category: Education, Bangladesh | Date: 17-08-13 By Nazmus Sadat

শোনো, এবার কিছু মানুষের গল্প শোনাবো, যারা কেউইতোমার থেকে ব্যতিক্রম ছিলনা, মাইকেল জর্ডান যাকে কিনা স্কুল কলেজ সব জাইগাথেকেই বাস্কেটবল টিম থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয় শুধুমাত্র তার উচ্চতা আরনৈপুণ্যর অভাবের কারন হিসেবে। অথচ বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় মাইকেলজর্ডানের নাম দেখা যাবে সকলের আগে ।এব্যাপারে তিনি বলেছিলেন-আমাকে বিতাড়িতকরা হয় আর সেটাই হয় আমার সফলতার কারন কেনোনা আমি প্রমাণ করতে লেগে যাই- আমিকরে দেখাবোই দেখাবো!!  এনিড ব্লিটনের লেখা বই ১০০০ বারেরও বেশি বারপ্রকাশক কোম্পানি থেকে প্রকাশ করতে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে তার লেখাঅ্যাডভেঞ্চার গল্প গুলোই হয়ে ওঠে গল্প রাজ্যের শ্রেষ্ঠ লেখা যার ফল বয়েচলেছে আজও একজন শ্রেষ্ঠ গল্পকার হিসেবে।

এনরিকো কারুসো- যার ব্যাপারে গানের শিক্ষকবলেছিলেন-“তোমার গানের কণ্ঠ নেই,তোমার দ্বারা গান হবে না”।পরবর্তীতেনীরবে নিভৃতে আপন নৈপুণ্য প্রদর্শনে এনরিকো হয়ে ওঠেন বিখ্যাত অপেরা সঙ্গীতগায়ক।

ওয়াল্ট ডিজনিকে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে তাড়িয়ে দেওয়াহয়েছিল-“কোনও সৃজনশীলতা নেই” বলে।দমে না গিয়ে ওয়াল্ট ডিজনি নিজেকে প্রমাণকরতে কাজ করে চলেন নীরবে নিভৃতে, যার বর্তমান পরিচয় আর অবস্থান প্রায়সকলেরই জানা!

এভাবেই একে একে নাম বলা যাবে হাজার হাজার ইতিহাসদ্রষ্টার যাদের জয়গানের সূচনা হয়েছিল বিফলতাকে ধরে। “পারি-পারবো”- এমনটাযদি ভাবতে পারে তবে হতাশা তোমার জন্য নয়!! তোমার সমস্যা নিশ্চয়ই তাদের মতোএত প্রবলও নয়! তোমার কেবল দু-একটি স্টেপ আগ-পিছ হয়েছে,এই তো! হয়েছে তুমিপারছ না তাতে কি!!! তুমিআজও সফল নও তবে তাতে কি!!! আজও ভালো যোগ্য হয়ে উঠতেপারো নি তো কি হয়েছে!!! তুমি যেহেতু বিশ্বাস করেন তুমি পারবে- তুমি অবশ্যইপারবে!!

এত কথা কেন বলছি জানো? শুধু মাত্র তোমার জীবনেরস্বপ্নগুলোকে আগলে রাখার জন্য, তোমাকে তোমার স্বপ্নের চেয়ে বড় দেখতে চাওয়ারজন্য।তুমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর কে চিনো না? আতিউর রহমান। যিনি গর্বকরে বলে আমি কৃষকের সন্তান,এলাকার মানুষের টাকা দিয়ে আমার জীবনে এতদূর আশারভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। হুম,তুমি হবে বিশ্বের বাঘা-বাঘাবিজ্ঞানীদের একজন, তুমি হবে বিশ্ব্বের প্রভাবশালী একজন সফল উদ্যোক্তা, তুমিহবে নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতা, আব্রাহাম লিঙ্কনের মতো প্রেসিডেন্ট, তুমিহবে জর্জ বার্নার্ড শ এর মতো, তুমি হবে নোবেল বিজয়ী, দেশের সবচেয়ে বড় আইটিফার্মটি তোমার হবে, সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রি টি তোমার হবে, বাংলাদেশে তুমিবিমান তৈরি করবা, বাংলাদেশে তুমি সাফারি ফেরেইরা'র মতো অটোমোবাইলইন্ডাস্ট্রি খুলবে। তুমি হবে জাতিসংঘের মহাসচিব, তুমি হবে বিশ্বের বড় বড়মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি সিইও,বিশ্বব্যাংক, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘেরঅঙ্গসংস্থা(UNDP, WHO.....etc) যেগুলো সারাবিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশেপরিচালিত হচ্ছে সেগুলোর পরিচালক, এসব এবং বিভিন্ন বড়-বড় ব্যাংকগুলোরবিভিন্নঅঞ্চল(ইউরোপ, দক্ষিন এশিয়া... ইত্যাদি) প্রধান। কি হতে চাও তুমি? সবহতে পারবে যদি নিজের উপর আস্থা থাকে, এবং সে অনুসারে অদম্যভাবে পরিশ্রমকরে যাও। ইনশা'আল্লাহ স্রষ্টা তোমাকে প্রতিদান দিবেনই,তা আগে হোক আর পরেহোক।

কিন্তু দেখেতো উপরে যা বললাম,এসব কিছু হতে কি এমনকোনো রিকোয়ারমেন্ট আছে যে, তোমাকে বুয়েটেই পড়তে হবে কিংবা এইরকম কোনোসুনিদ্রিষ্ট কিছু? নেই কিন্তু এখানে যেই জিনিসগুলো সুনিদ্রিষ্ট আছে সেটিহলো তোমার "Dream" "Determination","Imdomitabole","Spirit","Hardwork". তাই আর দেরি করোনা, ভালভাবে চিন্তা করো তোমাকে কোন প্রফেশন বেশি টানে,কোনসাবজেক্ট নিয়ে পড়াশুনা করতে এবং উচ্চতর কিছু করার চিন্তা তোমাকে তাড়না দেয়, তবে সেটি সম্পর্কে আরো জানো আর সেভাবেই ঝাপিয়ে পড়ো। প্রতিষ্ঠান কোনো বাধানয়, বাধা হতে পারে তুমি নিজে অথবা তোমার অ্যামেরিকার "বোস্টনবিশ্ববিদ্যালয়ে" শিক্ষকতা করছে। অতএব যেকোন অবস্থান থেকে তুমি তোমারভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারবে যদি তুমি সত্যিই কিছু মন থেকে চেয়ে থাক।

তো তুমি কেন পারবে না? যা কিছু শিখেছ তাকে কাজেলাগানোর চেষ্টা করো। তোমার মতো ক’জন আছেন যারা শিক্ষা পেয়েছে স্কুল-কলেজকিংবা ভার্সিটি থেকে!!! অথচ সফল তারাও হয়েছে যারা কেও কেও স্কুল,কলেজ কিংবাবিশ্ববিদ্যালয় এর গণ্ডি পেরোতে পারেনি। “পলএলেন” বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিপেরোতে পারেননি কিন্তু তিনি ছিলেন বিলগেটসের সাথে সাথে মাইক্রোসফটের সহকারীপ্রতিষ্ঠাতা একইসাথে ড্রিমওয়ার্কস স্টুডিও এরপ্রতিষ্ঠাতা। “রিচার্ডব্রান্সন” স্কুল ছেড়ে ব্যবসায়ে মনোযোগ দেন এবং বিখ্যাত এয়ারলাইন্সকোম্পানি “আটলান্টিকএয়ারওয়েস” এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। “ল্যারিএলিসন” ‘ইলিওনয়েস” বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত হবার পর "শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে"ভর্তি হন তবু শেখান থেকেও তাকে ফিরে আসতে হয় কোনও এক অজানা কারনে।প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়ায় ল্যারিএলিসন প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বখ্যাত এবংপৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ সফটওয়্যার কোম্পানি“ওরাকল”। “জ্যাকটেইলর” কলেজ ছেড়েব্যবসায়ের দিকে নজর দেন এবং উন্নত বিশ্বের জনপ্রিয় “রেন্টএকার” সার্ভিসচালু করেন যা আজও চালু রয়েছে। এভাবেই একে একে নাম বলা যাবে সহস্র সব সফলব্যক্তিত্বদের নাম যাদের ছিলনা কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি কিংবা কোনওসার্টিফিকেট। পিয়ারসন এর ভাষায়-“ যদি উঠারজন্য একটা মই থাকে তবে আপনার উচিতহবে মইতে উঠে স্থানটা পার হওয়া অথচ তারাও পার হয়ে যায় যারা মই ছাড়ায়লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে”। নিজেকে জানো,নিজের শক্তি সামর্থের উপর আস্থা রাখো।তারা যদি স্কুল-কলেজ না পেরিয়ে পারে তবে তুমি এসবের অভজ্ঞতা নিয়েও কেনপারবে না? বলাহয়-“শত্রুর শক্তির থেকেও নিজের শক্তি জানা আরও বেশি প্রয়োজনকেননা জয় আসবে আপন শক্তিতে, শত্রুর অসামর্থ্যবানে নয়”!! "আপনি যদি নিজেকেদুর্বলভাবেন তবে আপনাকে সবল করার ক্ষমতা কারও নেই আবার যদি আপনি নিজেকে সবলকরার চেষ্টা করেন তবে আপনাকে দুর্বল ভাবার ক্ষমতাও কারও নেই।এখন সিদ্ধান্তআপনার- হয় নিজেকে দুর্বল ভেবে পরাজয় বরণ করুন নয় তো সবল হয়ে উঠতেআত্মনিয়োগ করুন।' ---বেভারলি সিলস "যদি আপনি পরিশ্রমী হতে শেখেন তবে যেকোনওস্বপ্নই আপনি দেখতে পারেন আর নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনার স্বপ্নসত্য হবে।" ---হেনরি ফোর্ড "আপনাকে একমাত্র সেই হারাতে পারবে যে আপনার থেকে বেশিপরিশ্রম করবে, অথচ আপনি তাদের সবাইকেই পেছনে ফেলতে পারবেন যদি আপনি তাদেরথেকেও বেশি পরিশ্রম করতে পারেন।" ---বেবরু মেধা এবং পরিশ্রম দুটি আলাদাজিনিস।অনেকে বলে থাকবে মেধা ছাড়া উন্নতি অসম্ভব, আবার অনেকের মতে পরিশ্রমেরসাথে সাথে মেধার উপস্থিতি থাকাটাও বাঞ্চনীয় !তবে তোমাকে আগে বুঝতে হবেমেধা কোন জিনিস!!!

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অলস্মিথ।চার বার নিউইয়র্কেরগভর্নর হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেন।কলম্বিয়া এবং হাভার্ড সহ সেরা ছয়টিবিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে!!অথচ তারপড়ালেখার ব্যাপারে শুনলে আশ্চর্য হবে!!তিনি স্কুলের গণ্ডি ও পার হতেপারেননি!!ইচ্ছা ছিল বড় রাজনীতিবিদ হবেন,তাই দিন রাত পরিশ্রম করে রাজনীতিব্যাপারটাকে নিয়েই ভালোভাবে গবেষণা শুরু করেন যার ফলশ্রুতিতে তাকেনিউইয়র্কের প্রধান সরকারী বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়!!

মূকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন!তাকে যখন বলা হলস্ক্রিপ্ট দেখে মুখস্ত করে অভিনয় করতে তখন তিনি সে অনুপাতেই অভিনয় করলেন।কিন্তু একবারও তা গ্রহণযোগ্য হল না।এবারে চ্যাপলিন নিজের বুদ্ধিমত্তারপরিচয়সূচক নিজের বানানো কাল্পনিক চরিত্র দিয়ে অভিনয় করলেন যা তাকে এনে দিল- "চার্লি চ্যাপলিন" খেতাব!!

নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ সর্বক্ষেত্রে পরিশ্রমের ফলই সুফলবয়ে আনে।তোমাকে বুঝতে হবে পরিশ্রম একটা ''উপায়" যার সাহায্যে যে কোনও কিছুআয়ত্ত করা সম্ভব। হতে পারে সেটা মেধা,কিংবা বুদ্ধিমত্তা।নিয়মিতচর্চা,পরিশ্রম করার সামর্থ্য আর সেই সাথে ধৈর্য- এই তিনটি জিনিসের সমন্বয়ঘটাতে পারলে যে কোনও কিছু আয়ত্ত করা তোমার জন্য কঠিন কিছু নয়।তবে সর্বদামেধা-পরিশ্রম-বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনায় না যাওয়াটাই মঙ্গল।কেননা,এর একটিঅন্যটির দ্বারা সৃষ্টি। সুতরাং কখনও তা একটি অন্য একটিকে ছাপিয়ে যেতে পারেনা!! তোমার ফ্র্যান্ডরা যা করেছে তা স্বাভাবিক, অন্যদশজনের মতোইকরেছে,তাদের পছন্দের ফলাফল পেল, পছন্দের ভার্সিটি পেল(ধরো), তাদের ৯৫ভাগেরস্বপ্নটি এই পর্যন্তই, তারা গ্রাজুয়েশন করবে তারপর ভাল স্যালারীর একটিচাকরি করে, দু-একজন ব্যাতক্রম হবে,তবে যদি তারাও তেমন এমন উচু আগ্রহ স্বপ্নদেখে তাদেরও “অভিনন্দন”, ভাল ফলাফল আর ভার্সিটি ভর্তিই তোমার শেষ নয়, মাত্রা শুরু! নতুন যাত্রা শুরু করো। কিন্তু তুমি যদি উপরিউক্ত আইনস্টাইনেরকথা মতো তথা অতিসাধারন মানুষদের সাথেই চলো,তাদেরই অনুসরন করো, তবে তুমিতাদের মতোই হবে, আর যদি অনেকের থেকে ভিন্ন পথে চলো, তবে তুমি একসময় নিজেকেসেই অনেকের থেকে ভিন্ন অবস্থানে পাবে।এখন সেটি তোমার সিদ্ধান্ত, তুমি কিএকটি বিশাল আইটি ফার্মের মালিক হবে নাকি বাজারের দু-একটা কম্পিউটার নিয়েবসা সার্ভিসিং সেন্টার করবে? ইটস ইউর চয়েস।বিল গেটস বলেছিল,I failed in some subjects in exam, but my friend passed in all, now he is an engineer in Microsoft and I am the owner of Microsoft. এখন তুমি কি করবে? *মানুষ চেয়েছে উড়তে, অতঃপর ডানাবিহীন এ মানুষ প্লেন আবিস্কার করে তার উড়ারস্বপ্ন পূরন করলো!! *মানুষ চেয়েছে আকাশ ছুঁতে, অতঃপর ছোট্ট আকৃতির এ মানুষআজ ছুয়েছে চাঁদ-মঙ্গল!! *মানুষ চেয়েছে দেখতে, অতঃপর অক্সিজেন ছাড়া চলতে নাপারা এ মানুষ কৃত্রিম অক্সিজেন তৈরি করে আজ সাঁতরায় সাগরতলে!!! *মানুষচেয়েছে দেখাতে, অতঃপর নব নব সব আবিস্কারে আজ তারা তা করে দেখিয়েছে!!!!মানুষ যা কল্পনা করেছে, করতে ইচ্ছা করেছে, তা তারা করতে পেরেছে। একসময় যাঅলীক মনে হয়েছে,পরে তা অনেক বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। অতএব আমি চাই, তুমি-তোমরা সব গদ-বাধা পথে চালিত হবে না, যার যেদিকে ঝোক সে সেদিকে তারসর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখাও। তোমাদের পাশে আমরা আছি, আমাদের Life Carnival Team আছে,থাকবে তোমাদের সব উন্নত-উদ্যমী,জাগরনী উদ্যোগ আর প্রচেষ্টারসাথে।

"কলনেল সান্ডারস"- এর কথা মনে আছে তো? যিনি পৃথিবীবিখ্যাত KFC রেস্টুরেন্টের প্রতিষ্ঠাতা।এই অসাধারণ ব্যক্তিত্ত কিন্তুএকদিনেই সফলতা পাননি!! তিনি তার সফলতার ব্যাপারে বলেন, "আমি প্রথম প্রথমমানুষের দ্বারে দ্বারে যেয়ে মুরগীর ফ্রাই বেচতাম। আমার মনে আছে আমার কাছথেকে খাবার নেয়ার আবেদনে আমি সর্বমোট ১০০৯ বার বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট থেকে "না"বাচক শব্দটি শুনেছি।পরে ১০১০ বারের বার আমি সফল হয়েছি"।

টমাস আল্ভা এডিসন যখন তার আবিষ্কৃত বৈদ্যুতিক বাল্বেরজন্য ১০০০ রকমের জিনিসের তৈরি ফিলামেন্ট ব্যাবহার করেও কোনও আলো জ্বালাতেপারলেন না তখন বিরক্ত হয়ে এডিসনের ব্যক্তিগত সহকারী বলে উঠলেন, "আমরা কিছুইকরতে পারলাম না"।তারজবাবে এডিসন বলেছিলেন, "না,আমরা একটা জিনিস আবিষ্কারকরেছি; আমরা বরং আবিষ্কার করেছি যে পৃথিবীতে প্রায় ১০০০ রকমের জিনিস রয়েছেযা দিয়ে ফিলামেন্ট তৈরি করা সম্ভব নয়"।

(হঠাৎ হঠাৎ...) মনে হতেই পারে..."তুমি পারবে না"। মনেহতেই পারে..."বেঁচে থেকে কি লাভ"!! মনে হতেই পারে..."সময় ফুরিয়ে গেছে"!!মনে হতেই পারে..."অনেক ভুল করেছি"। মনে হতেই পারে..."আর কিছুই সম্ভব নয়"!!

এমনিভাবে হাজারো অনুশোচনা আর দুঃখবিলাস পূর্ণ কথাতোমার মন অশান্ত হতেই পারে!!!"মনের কথা মনে এসেছে তাতে কবে কি হয়েছে"!!-এটা স্রেফ কবিতার লাইন হলেও বাস্তবে সত্যিয় এমনটাই হয়!! মনের কথাগুলো মনেইগড়ে ওঠে আবার ইচ্ছা করলে মনের মাঝেই তাকে কবরও দেওয়া যায়।এটার জন্য প্রয়োজনশুধু একটু শক্ত মনোভাব আর একান্ত ইচ্ছা !!"যে সময় চলে গেছে তাকে আর ফিরেপাবে না"- কথা সত্য। তবু যে সময় আছে তাতেই পারবে নতুন করে শুরু করতে!!পূর্বের অনুশোচনা ভুলে যেয়ে শুরু করো নতুন করে,ভেবে বের করো নতুন পথ।নিজেকেনিজে জানান দাও- "আমি পারবো,অবশ্যই পারবো"।

"ডেল কার্নেগী"কে নিশ্চয় চিনে থাকবে- যিনি কিনাউদ্দীপনামূলক লেখনীর জন্য চীর উজ্জ্বল চেনা পরিচিত। এই ডেল কার্নেগীর জীবনীযদি পড়ে থাকেন তাহলে দেখবেন তিনি বলে গেছেন, "আমি চাইতাম বিখ্যাতব্যক্তিদের মতো সফল হতে; এর জন্য আমি অনেক পরিস্রমও করেছি কিন্তু আমিকোনভাবেই সফল হইনি,অবশেষে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম- অন্যের মতো নয়- বরং আমি হবো "ডেল কার্নেগী" "।

মূকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন- তিনি যখন প্রথম অভিনয়জগতে নাম লেখান তখন তাকে বলা হয়েছিল বিখ্যাত সবার অনুকরণ করে স্ক্রিপ্টদেখে দেখে অভিনয় করতে। চার্লি চ্যাপলিন বেশ কবার অভিনয় করার চেষ্টা করলেনকিন্তু কোনভাবেই সফল হতে পারলেন না,অবশেষে তাকে যখন অভিনয় করা থেকে ইস্তফাদিতে চাওয়া হল তখন তিনি বলেছিলেন, "আমাকে শুধু একটি বার আমার মতো করে অভিনয়করার সুযোগ দিন"। কর্মকর্তারা তার এই অনুরোধটুকু রক্ষা করলেন এবং চার্লিচ্যাপলিনের নিজের মতো করে করা অভিনয় থেকেই সারাবিশ্ব চিনে নিল- "চার্লিচ্যাপলিন আসলে কে"।

“একবার এক যুবক সক্রেটিসের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলো, "সাফল্য লাভের রহস্য কি?"সক্রেটিস তাকে বললেন "পরদিন নদীর ধারে এসো, উত্তরবলে দেবো।"কথামতো যুবকটি পরদিন নদীর ধারে এসে সক্রেটিসের সাথে দেখাকরে।সক্রেটিস তখন ছেলেটিকে সাথে করে নদীর ভেতর নামে। এরপর গলা সমান পানিরভেতর যেয়ে সক্রেটিস তখন ছেলেটির মাথা পানির ভেতর চেপে ধরে। এভাবে কিছু সময়ছেলেটিকে পানির ভেতর জোর করে চেপে রেখে তারপর তাকে উপরে তোলে। ছেলেটি তখনজোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে বলে, "আপনি এমনটা কেন করলেন"।সক্রেটিস তখন জবাবদেই,"পানির ভেতর ডুবে থাকা অবস্থাই তুমি কিসের অভাববোধ করছিলে?"ছেলেটিউত্তর দেই, "বাতাসের"।সক্রেটিস বললেন,"প্রান বাঁচাতে যেমন তুমি বাতাসেরজন্য মরিয়া হয়ে উঠছিলে,তেমনিভাবে সফলতা পাবার জন্যও তোমাকে অমন মরিয়া হয়েকাজ করতে হবে। এটাই সফলতার আসল রহস্য,এ ছাড়া আর কোনও গোপন তত্ত্ব নেই।"

সাফল্য লাভের জন্য যদি নিজের ভেতর থেকেই সাফল্যেরক্ষুধা অনুভব না করো তবে কখনোই সাফল্য পেতে আগ্রহ জন্মাবে না।প্রচণ্ডআগ্রহশীলতাই মানুষকে সফল হতে সাহায্য করে।-(বিশেষজ্ঞদের মতে) (চলবে.........)