Subscribe Here





লাইফ কার্নিভাল

Category: Education, Bangladesh | Date: 30-07-13 By Muhammad Hussain Mahdi

সরাসরি শুরু করি। এটা আমরা সবাই জানি যে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীরা বেশিরভাগই নিজেদের পছন্দের সাবজেক্ট পড়তে পারেনা,  অনেকে ভয়ে বা সামাজিক প্রেক্ষাপট চিন্তা করে পছন্দের বিষয় নেয় না, অনেকে কিছু না বুঝে ঝোঁকের বশে আরো দশজন যেটা নেয় সেই সাব্জেক্টটা নিয়েই মহাখুশি যদিও সেই বিষয়টা তার সাথে যায় না, আবার অনেকের  বাসা থেকে পছন্দের বিষয় নিতে দেয় না, বাবা-মা জোর করে একটা বিষয় চাপিয়ে দেয়। আর এই কেসগুলোতে দেখা যায়, ২-৩ বছর পর একজন ছাত্র বুঝতে পারে যে তার জন্য এই সাব্জেক্টটা সুইটাবল না, সে কিছুতেই এই বিষয়ে ভাল করতে পারবে না। তখন আর ব্যাক করার বা নতুন করে পছন্দের বিষয় শুরু করার সুযোগ বা সাহস কোনটাই থাকে না। এর ফলে যেটা হচ্ছে বাংলাদেশে মোটামোটি ৮০% ছাত্র-ছাত্রীই এমন সাবজেক্ট পড়ছে বা পড়তে হচ্ছে যেটা তারা পড়তে চায় না।আর এর ফলাফল যে ভাল না এটা চারিদিকে তাকালেই বুঝা যায়। সবাই নিজের কাজটা কে ঘৃনা করে। এভ্রিওয়ান হেইট ওয়াট দে ডু। আর এই সমস্যা কিন্তু শুধু বাংলাদেশেই না। সারাবিশ্বে অল্পবিস্তর সব দেশেই এই সমস্যাটা আছে।

সমস্যার পিছনে কারণ বহুবিধ। সবাই যেই কারণগুলো দেখাবে সেগুলো হয়তো এরকম; দেশে পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠান নেই, ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম থাকায় কেউ চাইলেও পছন্দের বিষয় পাবার নিশ্চয়তা নেই, দেশে ডাবল মেজরের সুযোগ নেই এবং এমন আরো অনেক অনেক টেকনিকাল সমস্যা। সত্যি বলতে, এই সমস্যাগুলো খুবই নগন্য। আসল সমস্যাটা কোথায় আমরা অনেকেই জানি না। শুধু বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের কথাই বলি। দেখা যায়, ৮০% ছাত্র-ছাত্রীরই লাইফের গোল থাকে ‘ইলেকট্রিকাল’ পড়তে হবে। একটা সময় ছিল যখন এই ৮০% এরই টার্গেট ছিল ‘সিএসই’ পড়তে হবে। তারও আগে একটা সময় ছিল যখন এদের ধ্যান-জ্ঞান ছিল ‘সিভিল’ পড়তে হবে। কমার্স বা আর্টস বিভাগেও একই অবস্থা। একটা নির্দিষ্ট সময় সবাই একসাথে ‘সিএ’ হতে চায়, সবাই ‘বিবিএ’ পড়তে চায়, সবাই ‘আইন’ পড়তে চায়! একই সাথে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সবাই একটা সাব্জেক্টকেই পছন্দ করে! ফানি একটা ব্যাপার!
আসলে আমাদের বেশির ভাগই জানি না যে আমি নিজে কোন বিষয়টা পড়তে চাই বা কোন বিষয়ে আমার আগ্রহ বেশি বা কোন বিষয় আমার ট্যালেন্টের সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ! সহজে বললে কারোরই নিজের পছন্দ বলে কিছু নেই, নিজের ভাললাগা বলে কিছু নেই, নিজস্বতা নেই। এসব থাকলেও নিজের পছন্দের উপর আত্মবিশ্বাস নেই। মোটকথা নিজের উপরই কনফিডেন্স বা বিশ্বাসের অভাব। যদি স্বপ্নই না থাকে তাহলে স্বপ্ন বাস্তবায়নের ব্যাপারটাই তো আর থাকবে না।  এটাই হল আমাদের আসল সমস্যা। এত বড় সমস্যা! কিন্তু এই সমস্যা সমাধানের কোন চেষ্টা দেখা যাচ্ছে না।

যাইহোক, আমরা কিছু করার চেষ্টা করছি। প্রত্যেক বিষয়ের উপর বিশদ তথ্যগুলো নিয়ে একটা ওয়েবসাইট বানিয়েছি। বিষয় মানে সবকিছু। একাডেমিক বিষয় তো আছেই; মিউজিক, পেইন্টিং বা ক্রিকেটও এর মধ্যে পড়ে। আর ‘বিশদ’ মানে; কোন সাব্জেক্টের মজার ফীল্ডগুলো কী, ফিউচার কেমন, কী কী করা যাবে বা কী কী হওয়া যাবে, কেমন ট্যালেন্ট থাকলে কোন সাব্জেক্ট একজন ছাত্রের জন্য সুইটাবল হবে, চাকরির ক্ষেত্রে কীরকম সুযোগ আছে বা উদ্যোক্তা হবার সুযোগ আছে কিনা? এছাড়াও আরো নানাবিধ প্রশ্নের উত্তর। যেকোন স্টুডেন্ট সাবজেক্ট/ ক্যারিয়ার বাছাইয়ের আগে ওয়েবসাইটে গিয়ে সব দেখবে, পড়বে তারপর নিজেই সিদ্ধান্ত নিবে তার কোনটা পড়া উচিত বা তার ট্যালেন্টের সাথে কোন বিষয়টা সবচেয়ে বেশি সামাঞ্জস্যপূর্ণ।

এই প্রত্যেক বিষয়ের উপর বিশদ তথ্যগুলো আমরা ঐ বিষয়ের উপর এক্সপার্টদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করছি।তাঁদের ভিডিও ইন্টারভিউ কালেক্ট করছি। এই ব্যাপারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাররা, পিএইচডি করছেন এমন বড় ভাইরা আমাদেরকে অনেক সাহায্য করেছেন, এখনও করছেন। স্যারদের সাথে কথা বলতে গিয়ে একটা ব্যাপার লক্ষ করছি। আমাদের এই আইডিয়া নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশা পাশি স্যাররাও অনেক উৎসাহী। এর কারণটা হল, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্টুডেন্টদেরকে স্যাররা খুব কাছ থেকে দেখছেন এবং ব্যাপারটা উপলব্ধি করছেন যে বেশির ভাগ  ছাত্রেরই তার নিজের বিষয়ে কোন আগ্রহ নেই। ফলে ভুরি ভুরি গ্রেজুয়েট বের হলেও দেশ আত্মবিশ্বাসী জনবল পাচ্ছে না। যাইহোক, স্যারদের আগ্রহ দেখে আমরা আরো বেশি কাজ করার সাহস পাচ্ছি। প্রত্যেক সাব্জেক্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পার্সপেক্টিভ থেকে কয়েকটা ইন্টারভিউ নেয়ার ইচ্ছা আছে। ইতঃমধ্যেই অনেকগুলা ইন্টারভিউ কালেক্ট করে ফেলেছি। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইন্সপাইরেশনাল ইন্টারভিউ কালেক্ট করছি। ব্যাপারটাকে ইন্টারেক্টিভ করার উদ্দেশ্যে কমেন্ট করার অপশন রাখা হয়েছে।কারো যদি কোন বিষয় নিয়ে আরো জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে সে ঐ বিষয়/ ইন্টারভিউ এর নিচেই কমেন্ট করতে পারবেন। আর সেই প্রশ্নের উত্তরও যে কেউ দিতে পারবেন।

এছাড়াও আমাদের সাইটটিতে আরো কিছু ব্যাপার থাকছে। প্রত্যেক বিষয়ের উপর বাংলায় বা ইংরেজিতে টিউটোরিয়াল থাকছে। টিউটোরিয়ালগুলো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত আছে। জুনিয়র, ৯ম-১০ম, কলেজ লেভেল এবং ভার্সিটি লেভেলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা করে টিউটোরিয়াল থাকছে আমাদের সাইটে। শুধুই বিজ্ঞান বিভাগ নয়, আবার শুধুই একাডেমিক পড়াশোনাই নয়। যেকোন বিভাগেরই, যে কোন বিষয়েই টিউটোরিয়াল পাওয়া যাবে আমাদের এই সাইটে।

এই মূল দুইটা বিষয়ের পাশাপাশি ব্লগিং এবং আরো কিছু অ্যাক্টিভিটিও আমাদের সাইট থেকে হবে।বিভিন্ন সাব্জেক্টের জন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া যেতে পারে, কোথায় কী রকম সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়; এমন সব তথ্য পাওয়া যাবে আমাদের সাইটে।

আমরা গতবছরই শুরু করেছিলাম। সাইটটি অনলাইনে এসেছিল। অপূর্ণাঙ্গ ছিল আমাদের কাজ। আজকে আবার শুরু করলাম, এবার মোটামোটি পূর্নাঙ্গভাবেই। বিজয়ের আনন্দ পাচ্ছি আবারও। আসলে পূর্ণতা বা অপূর্ণতা এই মূহুর্তে কোন ব্যাপারই না। শুধু একটাই ইচ্ছা, আমরা নিজেরা যেমন স্বপ্ন দেখি একইভাবে যারা স্বপ্ন দেখে তাদের স্বপ্নগুলো যাতে আরও সুন্দর আর মসৃন হয়।

সুন্দর, সমৃদ্ধ আর আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে,এখানে সবাই নিজের কাজটাকে মন থেকে করবে, যথাযোগ্য মানুষগুলো যথাস্থানে থাকবে এমন স্বপ্ন আর তার বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে করতেই এগিয়ে যাবে ‘লাইফ কার্নিভাল’। সকলের দোয়াপ্রার্থী।
 http://www.lifecarnival.com/index.php?page=home